Friday, November 27, 2015

আমার রাজকন্যা স্বপ্ন বিলাসী

মোবাইলে রিং হচ্ছে। ঝিনুকের ফোন।
-কি খবর সোনা পাখি ?
-কোথায় তুমি?
-বাসায় আবার কোথায় !! তুমি বাসা ছেড়ে চলে গেছ কাউকে না কাউ কে বাসায় তো থাকতে হবে !
-হুম বুঝলাম । একটু নিউমার্কেটের দিকে আসো !!
-কেন ??
-আমি টাকা আনতে ভুলে গেছি । সিএনজির ভাড়া দিতে পারছি না ।


আমি হেসে ফেললাম । বললাম
-সিএনজি নিয়ে আবার চলে আসো । বাসার সামনে আসো ।
-না । আমি আসবো না । তুমি আসবে । আমি রাগ করেছি । আমার রাগ ভাঙ্গাবে তারপর আমি যাবো !
আমি সত্যি খুব মজা পেলাম ঝিনুকের ছেলেমানুষী দেখে !

বাসা থেকে বের হলাম। ঝিনুক সকালে রাগ করে চলে গিয়েছিলো। যাবার সময় আমাকে শাসিয়ে যায় যে আর কখনো ফিরবেনা। আমি কিছু বলিনি। চুপচাপ টিভি দেখছিলাম। আমি জানি এই অভিমানের পর্বটা বড়জোর ১ ঘন্টার। তাই একটু মজা নিচ্ছিলাম। যখন নিউ মার্কেটে গেলাম দেখলাম ঝিনুক ফুটপাতের উপর বসে আছে । আমি সিএনজিয়ালা কে ভাড়া দিয়ে দিলাম । তারপর গিয়ে বসলাম ঝিনুকের পাশে । ওর রাগ ভাঙ্গাতে হবে । হাসি আসছিল । হাসি চাপাতে চাপাতে বললাম
-কি করলে তোমার রাগ ভাঙ্গবে বল?
-গান গাও একটা ।
ঝিনুক কেমন যেন গাল ফোলাল । ঝিনুকের এই গাল ফোলানো টা আমার খুব পছন্দ । কেমন একটা মিষ্টি মিষ্টি কিউট বাবুর মত লাগে । এই সময় ওর গালে একটা চুম দিতে খুব মজা !! :`> :`> :`> :`> আর আমি জানি চুম খেলেই ওর রাগ পরে যাবে । কিন্তু পাবলিক প্লেসে কাজটা করি কিভাবে ?
বললাম
-চলো ময়না । এখন কত লোক রয়েছে । মানুষ জন কি বলবে ? বাসায় চল । যা করতে বলবা তাই করবো !
- না এখনই !
-ময়না একটু বুঝার চেষ্টা করো । এতো মনুষ রয়েছে । কি বলবে বল ? বলবে ছেলে মেয়ে দুটো কি করছে রাস্তার মধ্যে !! তখন শুনতে কি ভাল লাগবে বল ?
আমাদের কথাগুলো কয়েকজন শুনছিল পাশে দাড়িয়ে । মজা দেখছিল । দেখলাম এক বৃদ্ধা এগিয়ে এল । ঝিনুককে বলল
-স্বামীর উপর রাগ করে থাকতে নেই । বাসায় চলে যাও মা ! !
এই কথায় কাজ হল । ঝিনুক বাসায় চলে এল । তারপর কি হল নাই বা শুনলেন   

রাতে খাওয়ার সময়ও 
ঝিনুক কথা বলল না । কিন্তু ওর মুখ দেখে মনে হচ্ছিল যে ও খানিকটা অস্থির হয়ে গেছে কথা বলার জন্য । আমি সুযোগ দিচ্ছি না বলে ও কথা বলতে পারছে না । আমি মনে মনে হাসলাম । খুব ভাল করে জানি আর বেশিক্ষন ও থাকতে ই পারবে না।
সব থেকে বড় কথা হল ঘুমানোর সময় আসছে । যত রাগই হোক ঘুমানোর সময় ও আমার সাথে রাগ করে থাকতে পারে না । আমাকে জড়িয়ে না ধরলে ওর ঘুমই আসে না । কথাটা আমার জন্যও সত্য । কেন জানি যতক্ষন ঝিনুককে জড়িয়ে ধরি ঘুম কিছুতেই আসে না ।

ঝিনুক একবার বাবার বাড়ি গেছে। মানে অামার শ্বশুরবাড়ি। আমি যাই নি । অফিসের কাজ নিয়ে খানিকটা ব্যস্ত ছিলাম । রাতে যখন ঘুমাতে গেলাম, দেখি কেবল এপাস ওপাস করি । ঘুম আর কিছুতেই আসে না । একবার মনে হল ঝিনুককে ফোন দেই । তারপর মনে হল থাক ও হয়তো ঘুমাচ্ছে । ঠিক তখনই ঝিনুকের ফোন এসে হাজির । ফোন করেই বলল,
-তুমি এখনই আসো আমাদের বাসায় !
-এতো রাতে ?
-হুম !! এখনই । এখনই !
-কোন সমস্যা হয়েছে নাকি ?
-জানি না । আসো । আসতে বলছি আসো !
মনটা খুশিই হল । রাত তখন প্রায় দুইটা । স্বশুর বাড়ি গিয়ে হাজির হলাম ।
ঝিনুকের বোন দরজা খুলে দিল । বললাম
-কি হয়েছে ?
-আপনাদের প্রেম দেখলে আর বাঁচি না । একজন কে ছাড়া আরেক জনের ঘুম ই আসে না । যান আপনার বউকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে আসেন । কথাগুলো মনে করে মুচকি মুচকি হাসছিলাম।

রাত ১টা বাজে। দুজন দুদিকে শুয়ে আছি । এমন একটা ভাব যেন ঘুমাচ্ছি । একটু পর লক্ষ্য করলাম ও নড়াচড়া করছে । তারমানে ওর অসস্তি লাগা শুরু করেছে । আমি আসতে করে ওর হাত ধরলাম । ভেবেছিলাম হাত সরিয়ে দিবে !! দিল না । বললাম
-এখনকার মত রাগটা মুলতবি রাখ । কাল সকাল থেকে না হয় আবার রাগ কর । এখন একটু ঘুমাও !
ঝিনুক এবার আমার দিকে পাশ ফিরল। দেখলাম আমার সোনা বউটার চোখে পানি । আমি পৃথিবীর সব কিছু দেখে হজম করে নিতে পারি কেবল কেন জানি ঝিনুকের চোখে পানি কিছুতেই সহ্য হয় না ।
সোনা বউয়ের চোখে পানি মুছিয়ে দিয়ে ওকে বুকের মধ্য জড়িয়ে ধরলাম । ঝিনুক যেন আরো একটু ফুপিয়ে উঠল ।
এতোক্ষন কথা বলে নি । কষ্ট টুকু বাইরে বের তো হতে হবে ! পাগলী আমার.....


গল্প : ‪#‎শঙ্খনীল‬

No comments:

Post a Comment

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...