Friday, November 27, 2015

অত:পর,,,শুধুই সুখের ছোয়

আজ কেন জানি ঘুম থেকে উঠতে মন চাইছেনা। বৃষ্টির দিনে মাঝে মাঝেই এমন হয় আমার। কিন্তু ঘুম থেকে যে উঠতেই হবে না হলে ব্যাবসা লাটে উঠবে। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে দেখি তমা মন খারাপ করে বসে আছে। আমি ওর পাশে এসে বসলাম।
কি হয়েছে তমা?
-কিছুনা।

আমাকে বল,কি হয়েছে?
-আজ একটা বাজে স্বপ্ন দেখেছি।
কি সেটা?
-আচ্ছা আমি যদি বাবু হওয়ার সময় মারা যাই তুমি কি করবে?
এসব বাজে কথা বাদ দাও লক্ষী বাবু আমার।
- না,বলোনা প্লিজ।
জানিনা।
-জানতাম এই উত্তরটাই দিবে। আসলে এই প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। যাও অফিসে যাও,আজ একটু তাড়াতাড়ি বাসায় এসো।
ওকে বাবু,তুমি একদম চিন্তা করোনা। ফ্রিজে খাবার রেডি করা আছে। বিকেলে এসে রাতের খাবার রান্না করবো।
-আচ্ছা যাও, যাওয়ার সময় আম্মুর বাসা থেকে ঘুরে যেও।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
বাসা থেকে বের হবো ঠিক এমন সময়। ও আবার ডাক দিলো।
-এই যে স্যার শুনুন। কি নিয়ম নীতি কি সব ভুলে গেছেন।
ওহ সরি মেম। এই বলে ওর গালে দুটু চুম্বন একে দিয়ে বের হলাম।
আমার মনে ওর প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো। ভাবতে ভাবতেই শ্বাশুড়ির বাসায় চলে এলাম। এই মহিলাটা অসম্ভব ভালো একজন মহিলা। মেয়েকে কাছ থেকে দেখবে বলে গ্রাম থেকে শহরের বাড়িতে চলে এসেছে। সকাল বিকাল গিয়ে দেখেও আসে। উনি যেদিন বলেছিলেন ঢাকায় উঠবেন উনি। আমি বলেছিলাম আমাদের বাসায় উঠতে। কিন্তু তমার প্রচন্ড ঝাড়ির মুখে আমার চাওয়া টিকে নি। আসলে ও চাইছিলো এই কয়েকটা মাস আমার আর ওর মাঝে যেন কেউ না থাকে।
আম্মুর বাসায় ঢুকে কথা বলছিলাম এমন সময় ওর ফোন।
-এই যে স্যার আপনি কোথায়?
আম্মুর বাসায়,কেন?
-অফিসে কি খুব বেশি জরুরী কাজ?
না,কেন বলোনা।
-নাহ এমনিতেই আপনার আদর পেতে ইচ্ছে হচ্ছে। আম্মুকে নিয়ে প্লিজ তাড়াতাড়ি একটু বাসায় আসেন।
ওকে ম্যাম,আসছি।
বাসায় গিয়ে দেখি ও খুব ঘর্মাক্ত। জিগেস করলাম,কি হয়েছে?
ও আমাকে টেনে রুমে নিয়ে গেল। তারপর প্রায় দশ মিনিট আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আর কিছুক্ষন আমার উপর আদরের বন্যা বয়ে গেল। একটু পর আমার কানের কাছে মুখ এনে বলল,আমার অনেক পেইন করছে। চল ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
ওর আম্মু আগে থেকেই সব গুছিয়ে রেখেছে। যাস্ট ওকে গাড়িতে তুলে বের হলাম। অ্যাপোলো তে নিয়ে গেলাম। যা ভেবেছিলাম তাই হলো। সিজার করতে হবে। ওর সাথে কিছুক্ষন গল্প করে বললাম কোন চিন্তা করোনা। রাতে সিজার করা হবে। ডাক্তার পেইন কিলার সেলাইন দিয়ে গেছে। আমি গিয়ে আব্বু আম্মুকে নিয়ে আসি। ও বললো, আচ্ছা যাও।
ওর আম্মুকে সব বুঝিয়ে দিয়ে রাত আটটার দিকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। দাউদকান্দি পার হতেই ওর আম্মুর ফোন,সিজার হয়ে গেছে। ওরা দুজনেই ভালো আছে। তোমার মেয়ে হয়েছে।
আমি আল্লাহর কাছে শুখরিয়া আদায় করলাম। বাড়িতে এসে তিনটার দিকে আব্বু আম্মুকে নিয়ে রওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। সাথি ফোন দিয়ে জানালো ও হসপিটালে চলে এসেছে। দিলাম এক ঝাড়ি। তোকে আমরা ডাক্তার বানিয়ে ভূল করছি ছাগল কোথাকার। ও কেটে দিলো।
সকাল নয়টায় হসপিটাল পৌছলাম। আব্বু আম্মু সাথি সবাই খুশি। শেষ পর্যন্ত তমার সাথে একা একা কথা বলার সুযোগ এল বেলা ২ টায়।
-এই কেমন লাগছে তোমার।
কান্নাশিক্ত গলায় বললাম ভালো না।
-কেন?
তুমি মরলানা কেন?
-হুম আমি মরলেইত খুশি। নতুন একটা বিয়ে . . . . . .
মা মেয়ে দুইটাই একসাথে প্রতিবাদি কান্না করে উঠলো। আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম। আসলে আমি তোমার গতকালের প্রশ্নের উত্তর এখনো খুজে পাইনি। তুমি মরলে উত্তরটা পেতাম।
এসব বলার সাথে সাথে আমার পিঠে কয়েকটা কিল অনুভব করলাম। যেটাতে নেই কোন ব্যাথা, আছে শুধু একরাশ ভালোবাসা. . . . . . .

No comments:

Post a Comment

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...